Swapno Fisheries
& Agro Ltd.
0
মহাশোল মাছ চাষের বিস্তারিত পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:
১. পুকুর নির্বাচন ও প্রস্তুতি:
পুকুরের আয়তন:
৪০-১০০ শতাংশের পুকুর ভালো, তবে মাঝারি আকারের পুকুর বেশি সুবিধাজনক।
পানির গভীরতা:
৮-১২ মাস ১.০-১.৫ মিটার পানি থাকা প্রয়োজন।
প্রস্তুতি:
পুকুর শুকিয়ে বা রোটেনন পাউডার প্রয়োগ করে রাক্ষুসে ও অবাঞ্ছিত মাছ দূর করতে হবে।
আগাছা দমন: জলজ আগাছা যেমন- কচুরিপানা, কলমীলতা, হেলেঞ্চা ইত্যাদি শেকড়সহ
তুলে ফেলতে হবে।
সার প্রয়োগ: পুকুর শুকানোর পর চুন এবং পানির রঙ অনুযায়ী সার (ইউরিয়া/টিএসপি)
ব্যবহার করতে হবে।
২. পোনা মজুদ:
মিশ্র চাষ:
রুই, কাতলা, মৃগেল বা কার্প জাতীয় মাছের সাথে মিশ্রচাষ হিসেবে এটি সেরা।
পোনা ঘনত্ব:
মিশ্র চাষের ক্ষেত্রে শতাংশ প্রতি ২-৩ ইঞ্চি আকারের ৮-১০টি পোনা (অন্যান্য মাছসহ)
মজুদ করা যেতে পারে, তবে মহাশোলের ঘনত্ব পুকুর ব্যবস্থাপনার উপর নির্ভর করে।
পোনা অবমুক্তকরণ:
সুস্থ ও সবল পোনা ভোরে বা বিকেলে পুকুরে ছাড়তে হবে।
৩. খাদ্য ব্যবস্থাপনা:
মহাশোল মাছের পোনা সাধারণত প্রাকৃতিক খাবার (পুকুরের তলদেশের শ্যাওলা, ছোট জলজ পোকা)
পছন্দ করে, তবে বড় হওয়ার সাথে সাথে সম্পূরক খাবারের প্রয়োজন হয়।
খাবারের হার:
মাছের মোট ওজনের ৩-৫% হারে প্রতিদিন দুবার খাবার দিতে হবে।
৪. পানি ও রোগ ব্যবস্থাপনা:
পুকুরের পানি অপরিষ্কার হলে বা পানির পরিমাণ কমে গেলে পানি পরিবর্তন করতে হবে।
মাছের গায়ে ক্ষত বা পরজীবী থাকলে সঠিক পরামর্শ নিয়ে ঔষধ বা চুন ব্যবহার করতে হবে।
৫. মাছ আহরণ:
মহাশোল মাছ সাধারণত ১ বছরে ৭০০-১০০০ গ্রাম বা তার বেশি ওজনের হয়ে থাকে।
পরামর্শ:
পুকুরের পানি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন এবং মাছের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করুন।