হাইব্রিড শোল মাছের পোনা (উন্নত জাতের শোল) চাষ একটি লাভজনক উদ্যোগ, যা ৫-৬

মাসে ১-২ কেজি বা তার বেশি ওজনের মাছ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করে। এ মাছ চাষের

জন্য পুকুর প্রস্তুত, কচুরিপানা বা কলমিলতাযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, পোনা মজুত

(শতাংশে ১০-১২টি), এবং নিয়মিত সঠিক (জীবন্ত বা কৃত্রিম) খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়।

পুকুরের চারপাশে অবশ্যই জাল দিয়ে ৫ ফুট উচ্চতায় বেড়া দিতে হবে যাতে মাছ বের হয়ে না যায়।

হাইব্রিড শোল চাষ পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে নিচে দেওয়া হলো:

পুকুর প্রস্তুতকরণ:


পুকুর নির্বাচন: শোল চাষের জন্য ১০-১৫ শতাংশের ছোট বা মাঝারি আকারের পুকুর ভালো ।

পরিবেশ: পুকুরে পানি পরিষ্কার রাখতে হবে। শোল মাছ আড়ালে থাকতে পছন্দ করে,

তাই পুকুরে কিছু কলমিলতা বা কচুরিপানা থাকা ভালো।

বেড়া দেওয়া: শোল মাছ বর্ষায় বা সুযোগ পেলে ডাঙায় চলে যেতে পারে, তাই পুকুরের

পাড় জাল দিয়ে ৫ ফুট উঁচুতে বেড়া দিতে হবে।

পুকুর শুকানো ও চুন প্রয়োগ: পুকুর শুকিয়ে তলদেশের রাক্ষুসে মাছ দূর করতে হবে এবং

প্রতি শতাংশে ১-২ কেজি চুন প্রয়োগ করতে হবে।

পুকুরের পানির যত্ন:



শোল মাছের জন্য খুব বেশি পানির প্রয়োজন হয় না, তবে পানির মান ঠিক রাখতে হবে।

অতিরিক্ত কচুরিপানা পরিষ্কার করতে হবে যেন পুকুরের ১/৩ ভাগের বেশি অংশ না থাকে।

মাছ আহরণ:

সাধারণত ৫-৬ মাসের মধ্যেই মাছ বিক্রির উপযুক্ত হয়ে যায়।

জাল টেনে বা পানি সেচে মাছ ধরা যায়।

সতর্কতা:

পুকুরের পানি বেশি দূষিত হলে পানি পরিবর্তন করতে হবে।

খাদ্যের অভাব হলে মাছ নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি করতে পারে, তাই নিয়মিত খাবার দিতে হবে।

ধন্যবাদ

পোনা মজুত:


পোনা নির্বাচন: সুস্থ, সবল এবং একই আকারের পোনা (২-৩ইঞ্চি) নির্বাচন করা ভালো। তবে

৭ দিন বয়সের বাচ্চা সংগ্রহ করেও চাষ করা যায়।

মজুত ঘনত্ব: একক চাষের ক্ষেত্রে শতাংশ প্রতি ২০-২২টি, এবং মিশ্র চাষে শতাংশ প্রতি

১০টি পোনা দেওয়া যেতে পারে।

খাদ্য ব্যবস্থাপনা:


শোল মাছ রাক্ষুসে প্রকৃতির হওয়ায় এরা জীবন্ত খাবার (ছোট মাছ, পোনা, কেঁচো) বেশি পছন্দ করে।

কৃত্রিম খাবার: পোনা ছাড়ার পর ছোট পোনা বা মাছ দিতে হবে। পরে ধীরে ধীরে

কৃত্রিম খাবার যেমন—ভাসমান ফিড বা খৈল, ভুষি ও মাছের গুঁড়ো

মেশানো খাবার দেওয়া যেতে পারে।


Swapno Fisheries

& Agro Ltd.

0

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.