ওয়াটার কুলিং এয়ারেটর (Water Cooling Aerator) হলো মৎস্য চাষের এক আধুনিক এবং অত্যন্ত
টেকসই যন্ত্র। এর বিশেষত্ব হলো এর মোটরটি পানির নিচে থাকে, যা একে অন্যান্য সাধারণ
এয়ারেটরের চেয়ে আলাদা এবং কার্যকর করে তোলে।
নিচে এটি কীভাবে কাজ করে এবং ব্যবহারের নিয়ম বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. ওয়াটার কুলিং এয়ারেটর কী ও কীভাবে কাজ করে?
সাধারণ এয়ারেটরের মোটর পানির উপরে থাকে এবং বাতাস দিয়ে ঠান্ডা হয়। কিন্তু ওয়াটার কুলিং
এয়ারেটরের মোটরটি পানির স্তরের ঠিক নিচে থাকে।
শীতলীকরণ (Cooling): মোটরটি পানির নিচে থাকায় চারপাশের পানি স্বাভাবিকভাবেই মটরকে
ঠান্ডা রাখে। এর ফলে মোটরটি একটানা দীর্ঘক্ষণ চললেও গরম হয়ে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
অক্সিজেন সঞ্চালন: এর প্রপেলার বা পাখাগুলো পানিকে সজোরে উপরের দিকে ছুড়ে দেয়
(ফাউন্টেনের মতো) অথবা চারদিকে ঢেউ সৃষ্টি করে। এই প্রক্রিয়ায় পানি সরাসরি বাতাসের
সংস্পর্শে এসে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং বিষাক্ত গ্যাস (যেমন অ্যামোনিয়া) বের করে দেয়।
স্তর মিশ্রণ: এটি পুকুরের নিচের স্তরের পানি উপরে তুলে আনে, ফলে পুরো পুকুরের পানির
তাপমাত্রা ও অক্সিজেনের ভারসাম্য ঠিক থাকে।
২. ব্যবহারের নিয়ম (How to Use)
আপনার স্বপ্ন ফিশারিশ এন্ড এগ্রো লিমিটেড-এ এটি ব্যবহারের জন্য নিচের ধাপগুলো
অনুসরণ করুন:
ক. স্থাপন (Setup):
মাঝখানে বসানো: পুকুরের মাঝখানে বা যে অংশে গভীরতা বেশি সেখানে এটি স্থাপন করা ভালো।
সঠিক গভীরতা: এটি ফ্লোটের (নৌকা) সাহায্যে এমনভাবে সেট করতে হয় যেন মোটরটি
পানির নিচে থাকে কিন্তু প্রপেলারটি সঠিক উচ্চতায় পানি ছিটাতে পারে।
রশি দিয়ে আটকানো: চারদিক থেকে শক্ত নাইলন রশি দিয়ে বেঁধে দিন যেন এটি
এক জায়গায় স্থির থাকে।
খ. বৈদ্যুতিক সংযোগ:
ওয়াটারপ্রুফ তার: যেহেতু মোটর পানির নিচে থাকে, তাই তারের জয়েন্টগুলো খুব
সাবধানতার সাথে ওয়াটারপ্রুফ করতে হবে। ভালো মানের ক্যাবল ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।
আর্থিং ও সার্কিট ব্রেকার: নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করবেন।
গ. সময়সূচী:
অন্যান্য এয়ারেটরের মতো এটিও রাত ২টা থেকে ভোর পর্যন্ত চালানো সবচেয়ে কার্যকর।
মাছের ঘনত্ব বেশি হলে বা মেঘলা দিনে দিনেও কয়েক ঘণ্টা চালাতে পারেন।
৩. ওয়াটার কুলিং এয়ারেটরের সুবিধা
দীর্ঘস্থায়িত্ব: মোটর গরম হয় না বলে এটি সাধারণ এয়ারেটরের চেয়ে বেশি বছর টেকে।
শব্দহীন: পানির নিচে মোটর থাকায় এটি চলার সময় শব্দ অনেক কম হয়।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়: কম বিদ্যুৎ খরচ করে এটি বেশি পানি নাড়াচাড়া করতে পারে।
সব ঋতুতে উপযোগী: গরমের দিনে যখন পুকুরের পানি গরম হয়ে যায়, তখন এটি পানি ঠান্ডা
রাখতে দারুণ সাহায্য করে।
রক্ষণাবেক্ষণ টিপস:
যেহেতু মোটর পানির নিচে থাকে, তাই প্রতি মাসে অন্তত একবার এটি তুলে চেক করবেন যে
মোটরের গায়ে কোনো শ্যাওলা বা কাদা জমেছে কিনা। কাদা জমে গেলে মোটরের কুলিং
সিস্টেম ব্যাহত হতে পারে।
Swapno Fisheries
& Agro Ltd.
0