Swapno Fisheries

& Agro Ltd.

0

দেশি শিং মাছ চাষ পদ্ধতি: পোনা মজুদ ও লাভজনক চাষের পূর্ণাঙ্গ গাইড

বাংলাদেশে দেশি শিং মাছ শুধু সুস্বাদু নয়, বরং এটি রক্তাল্পতা ও শারীরিক দুর্বলতা দূর করতে

অত্যন্ত কার্যকর। বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতিতে পুকুরে বা বায়োফ্লকে দেশি শিং মাছ চাষ করে অনেক

খামারি স্বাবলম্বী হচ্ছেন। সঠিক জাতের পোনা নির্বাচন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে

পারলে অল্প সময়েই শিং মাছ চাষ থেকে বড় অংকের মুনাফা অর্জন সম্ভব।

১. পুকুর নির্বাচন ও সঠিক প্রস্তুতি

২. উন্নত জাতের পোনা নির্বাচন (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)

৩. আধুনিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা

৪. পানির গুণমান ও পরিচর্যা

৫. রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার

শিং মাছের লেজ পচা বা গায়ে ক্ষত রোগ দেখা দিতে পারে।


  • নিয়মিত প্রতি ১৫-২০ দিন অন্তর চুন ও লবণ প্রয়োগ করলে মাছ রোগমুক্ত থাকে।

  • মাছের গায়ে ঘা দেখা দিলে মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে উপযুক্ত ওষুধ ব্যবহার করতে হবে।

৬. মাছ আহরণ

সঠিক নিয়ম মেনে চাষ করলে ৭-৮ মাসের মধ্যেই মাছগুলো বিক্রির উপযোগী হয়। শিং মাছ যখন

১৫-২০টি কেজিতে আসবে, তখনই বাজারজাত করা সবচেয়ে লাভজনক।

অ্যামোনিয়া নিয়ন্ত্রণ: শিং মাছ চাষে পানির অ্যামোনিয়া বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। এজন্য

নিয়মিত ১০-২০% পানি পরিবর্তন করা বা প্রোবায়োটিক ব্যবহার করা জরুরি।


নিরাপত্তা: পুকুরের চারপাশ জাল বা নেট দিয়ে ঘিরে দিতে হবে যাতে সাপ বা ব্যাঙ মাছ খেয়ে

না ফেলে।

দেশি শিং মাছ সাধারণত রাতের বেলা খেতে পছন্দ করে।

  • খাবার: ৩০-৩৫% প্রোটিন সমৃদ্ধ উন্নত মানের ডুবন্ত ফিড (Sinking Feed) ব্যবহার করুন।

  • প্রয়োগের নিয়ম: মাছের ওজনের ৩-৫% হারে খাবার দিতে হবে। প্রতিদিন দুই বেলা

    (খুব ভোরে ও রাতে) খাবার দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর।

শিং মাছ চাষের সফলতা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সঠিক ও সুস্থ পোনা সংগ্রহের ওপর।

  • পোনা নির্বাচন: সবসময় বিশ্বস্ত হ্যাচারি থেকে এক সাইজের (Uniform size) দেশি শিং মাছের

    পোনা সংগ্রহ করুন।

  • পোনার সাইজ: ২-৩ ইঞ্চি সাইজের পোনা মজুদ করলে মৃত্যুহার কম হয় এবং মাছ দ্রুত বাড়ে।

  • মজুদ ঘনত্ব: একক চাষের ক্ষেত্রে প্রতি শতাংশে ১০০০-১৫০০টি পোনা মজুদ করা যায়।

    নিবিড় পদ্ধতিতে চাষ করলে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব।

দেশি শিং মাছ চাষের জন্য খুব গভীর পুকুরের প্রয়োজন হয় না।


  • গভীরতা: ২-৩ ফুট পানির গভীরতা শিং মাছের জন্য আদর্শ।

  • মাটি: পুকুরের তলায় অতিরিক্ত কাদা থাকা যাবে না। কাদা বেশি থাকলে মাছের শরীরে রোগবালাই

    হতে পারে।

  • চুন ও সার: পুকুর শুকানোর পর শতাংশ প্রতি ১ কেজি চুন এবং ৫০০ গ্রাম লবণ দিয়ে মাটি

    শোধন করতে হবে। পানি দেওয়ার ৫-৭ দিন পর পোনা ছাড়ার উপযোগী হয়।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.