Swapno Fisheries

& Agro Ltd.

0

পুশ-ওয়েভ-এয়ারেটর (Push Wave Aerator) আধুনিক মৎস্য চাষের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি

যন্ত্র। এটি মূলত পানির উপরিভাগে ঢেউ বা তরঙ্গ (Wave) সৃষ্টি করার মাধ্যমে বাতাসে থাকা অক্সিজেন

পানিতে দ্রবীভূত করতে সাহায্য করে।

কিভাবে কাজ করে?

এই এয়ারেটরটি একটি ভাসমান মোটরের মাধ্যমে চলে। এর নিচে একটি প্রপেলার থাকে যা পানিকে

নির্দিষ্ট কোণে ধাক্কা দিয়ে সামনের দিকে ঢেউ আকারে ছড়িয়ে দেয়। এই প্রক্রিয়ায় পানির সাথে

বাতাসের সংস্পর্শ বাড়ে এবং দ্রবীভূত অক্সিজেনের (Dissolved Oxygen) পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

১. স্থাপন করার নিয়ম (Installation)


সঠিক স্থান নির্বাচন: এয়ারেটরটি পুকুরের ঠিক মাঝখানে বা এমন জায়গায় স্থাপন করুন যেখান

থেকে ঢেউ সবদিকে সমানভাবে পৌঁছাতে পারে। তবে বাতাসের প্রবাহ যেদিকে, সেদিকে মুখ করে

দিলে ঢেউ ভালো খেলে। নিশ্চিত করুন যে এয়ারেটরের ফ্লোট বা ভাসমান অংশটি পানিতে স্থিরভাবে

ভাসছে। এটি যেন একদিকে হেলে না থাকে।



রশি দিয়ে আটকানো: নাইলনের শক্ত রশি দিয়ে এয়ারেটরটিকে পুকুরের চারপাশ থেকে বেঁধে দিন

যাতে ঢেউয়ের ধাক্কায় এটি পাড়ের দিকে চলে না আসে।



২. পরিচালনার সময়সূচী (Operation Timing)

মাছের ঘনত্ব এবং পুকুরের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এটি চালানো উচিত:

রাত থেকে ভোর পর্যন্ত: সাধারণত রাত ২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত পানিতে অক্সিজেনের অভাব

সবচেয়ে বেশি হয়। এই সময়ে এয়ারেটর চালানো সবচেয়ে জরুরি।



মেঘলা দিনে: দিনের বেলা আকাশ মেঘলা থাকলে বা বৃষ্টি হলে সালোকসংশ্লেষণ কম হয়, ফলে

অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তখন দিনেও চালানো প্রয়োজন।



খাওয়ানোর পর: মাছকে খাবার দেওয়ার ১-২ ঘণ্টা পর এটি চালালে হজম প্রক্রিয়া দ্রুত হয় এবং

মাছের বিপাক ক্রিয়া ভালো থাকে।



৩. যান্ত্রিক যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ

ভোল্টেজ চেক: চালানোর আগে বিদ্যুতের ভোল্টেজ ঠিক আছে কি না দেখে নিন। লো-ভোল্টেজে

চালালে মোটর পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।



পাখা পরিষ্কার রাখা: নিয়মিত চেক করুন পাখায় বা প্রপেলারে কোনো প্লাস্টিক, শেওলা বা ময়লা

আটকে আছে কি না। ময়লা থাকলে মোটরের ওপর চাপ পড়ে।



লুব্রিকেন্ট ও অয়েল: গিয়ার বক্স বা মটর যদি অয়েল-বেজড হয়, তবে নির্দিষ্ট সময় পর পর অয়েল

পরিবর্তন বা গ্রিজিং করতে হবে।



তারের নিরাপত্তা: পানির ভেতর দিয়ে আসা বিদ্যুতের তার যেন কোথাও কাটা না থাকে এবং

জয়েন্টগুলো যেন ওয়াটারপ্রুফ টেপ দিয়ে ভালোভাবে মোড়ানো থাকে।



বিশেষ সতর্কতা

পুকুরে যখন জাল টানবেন বা মাছ ধরবেন, তখন অবশ্যই এয়ারেটর বন্ধ রাখবেন এবং সম্ভব হলে

সরিয়ে নেবেন যাতে জালের সাথে লেগে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।

পুশ-ওয়েভ-এয়ারেটরের সুবিধাসমূহ


অক্সিজেন বৃদ্ধি: এটি খুব দ্রুত পুকুরের বড় এলাকা জুড়ে অক্সিজেনের সঞ্চালন বাড়াতে পারে।



পানির লেয়ার ভাঙা: পুকুরের উপরের স্তরের গরম পানি এবং নিচের স্তরের ঠান্ডা পানির মধ্যে

সংমিশ্রণ ঘটায়, যা মাছের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করে।



অ্যামোনিয়া গ্যাস দূরীকরণ: ঢেউ তৈরির ফলে পানির নিচের স্তরে জমে থাকা ক্ষতিকারক

অ্যামোনিয়া বা হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস বের হয়ে যেতে সাহায্য করে।



বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী: প্যাডেল হুইল এয়ারেটরের তুলনায় এই ধরনের এয়ারেটর সাধারণত কম বিদ্যুৎ খরচ

করে বেশি এলাকায় কাজ করতে পারে।



রক্ষণাবেক্ষণ সহজ: এর গঠন সহজ হওয়ায় এটি স্থাপন করা এবং পরিষ্কার রাখা বেশ সুবিধাজনক।



ব্যবহারের ক্ষেত্র

এটি সাধারণত মাঝারি থেকে বড় আকারের পুকুরে বেশি উপযোগী। বিশেষ করে কার্প জাতীয় মাছ

(রুই, কাতলা), পাঙাশ বা তেলাপিয়া চাষের পুকুরে যেখানে মাছের ঘনত্ব বেশি থাকে, সেখানে এটি

দারুণ কাজ করে।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.