ফাউনটেন এয়ারেটর (Fountain Aerator) দেখতে অনেকটা ঝরনার মতো। এটি মূলত
পুকুরের পানিকে উপরের দিকে ছুড়ে দিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়,
১. এটি কীভাবে কাজ করে? (Working Principle)
ফাউনটেন এয়ারেটর মূলত একটি হাই-স্পিড পাম্পের মতো কাজ করে যা ভাসমান অবস্থায় থাকে।
পানি ছিটানো: এটি পুকুরের নিচের বা মাঝখানের স্তর থেকে পানি টেনে নিয়ে সজোরে বাতাসের
উপরের দিকে ফোয়ারার মতো ছুড়ে দেয়।
অক্সিজেন মিশ্রণ: যখন পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে উপরে ওঠে এবং পুনরায় বৃষ্টির মতো নিচে
পড়ে, তখন এটি বাতাস থেকে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন শোষণ করে।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: গ্রীষ্মকালে বা কড়া রোদে পুকুরের উপরের স্তরের পানি খুব গরম হয়ে যায়।
ফাউনটেন এয়ারেটর এই গরম পানিকে বাতাসে ছুড়ে দিয়ে ঠান্ডা করতে সাহায্য করে।
গ্যাস দূরীকরণ: পানির ওপরের স্তরের প্রবল নাড়াচাড়ার কারণে পুকুরের ক্ষতিকারক গ্যাসগুলো
খুব দ্রুত বেরিয়ে যায়।
২. ব্যবহারের নিয়ম (How to Use)
ক. সেটআপ বা স্থাপন:
পুকুরের অবস্থান: এটি সাধারণত পুকুরের মাঝখানে স্থাপন করা হয়। এতে করে সবদিকে
সমানভাবে অক্সিজেন ছড়াতে পারে।
গভীরতা: খেয়াল রাখবেন এটি যেন খুব বেশি অগভীর পানিতে না রাখা হয়, কারণ তাতে তলানির
কাদা উপরে উঠে আসতে পারে। সাধারণত ৩-৪ ফুট বা তার বেশি গভীরতা এর জন্য আদর্শ।
বাঁধাই: এটি প্লাস্টিকের ফ্লোটের ওপর ভাসানো থাকে। চারদিক থেকে রশি দিয়ে পুকুরের
পাড়ে বেঁধে দিতে হবে যেন এটি এক জায়গায় স্থির থাকে।
খ. বৈদ্যুতিক সংযোগ:
ওয়াটারপ্রুফিং: যেহেতু এটি ফোয়ারার মতো পানি ছিটায়, তাই এর তারের জয়েন্টগুলো খুব
ভালোভাবে ওয়াটারপ্রুফ টেপ দিয়ে মুড়িয়ে দিতে হবে।
ভোল্টেজ চেক: পাম্পের মোটরটি যেন সঠিক ভোল্টেজ পায় তা নিশ্চিত করুন। ভোল্টেজ
কম থাকলে সার্কিট ব্রেকার ট্রিপ করতে পারে।
গ. পরিচালনার সময়সূচী:
রাতে ও ভোরে: অন্যান্য এয়ারেটরের মতোই রাত ২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত চালানো
সবচেয়ে বেশি জরুরি।
দুপুরে: যদি রোদে পানি বেশি গরম হয়ে যায়, তবে দুপুরের দিকে ১-২ ঘণ্টা চালালে
পানি ঠান্ডা থাকে।
শোভা বর্ধন: যেহেতু এটি দেখতে সুন্দর, তাই দিনের বেলা খামারের সৌন্দর্য বাড়াতেও এটি
মাঝে মাঝে চালানো যায়।
৩. রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance)
ইনটেক নেট পরিষ্কার: পাম্পের নিচে পানি টানার জন্য একটি নেট বা জালি থাকে। সেখানে
শেওলা, কচুরিপানা বা ময়লা আটকে আছে কি না তা নিয়মিত চেক করুন। ময়লা আটকে
গেলে পানি কম উঠবে এবং মোটরে চাপ পড়বে।
মোটর চেক: এটি যেহেতু একটানা পানিতে থাকে, তাই কয়েক মাস পর পর একবার তুলে চেক
করে দেখা উচিত মোটরের কোথাও মরিচা ধরছে কি না বা তার ঠিক আছে কি না।
সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা:
সুবিধা: এটি স্থাপন করা সবচেয়ে সহজ এবং অন্যান্য এয়ারেটরের তুলনায় দামেও কিছুটা
সাশ্রয়ী। এটি মাছকে পর্যাপ্ত অক্সিজেন দেওয়ার পাশাপাশি পুকুরকে সজীব রাখে।
সীমাবদ্ধতা: খুব বড় বা অনেক গভীর পুকুরের তলদেশের অক্সিজেন বাড়াতে এটি প্যাডেল
হুইলের মতো শক্তিশালী নয়। এটি মূলত উপরের স্তরে অক্সিজেন বাড়াতে এবং পানি ঠান্ডা
রাখতে বেশি কার্যকর।
Swapno Fisheries
& Agro Ltd.
0