Swapno Fisheries
& Agro Ltd.
0
ব্ল্যাক কার্প চাষ পদ্ধতি:
পুকুরের শামুক দমন ও দ্রুত বৃদ্ধির পূর্ণাঙ্গ গাইড
মাছ চাষিদের জন্য একটি বড় সমস্যা হলো পুকুরে শামুক ও ঝিনুকের উপদ্রব। এই সমস্যা
সমাধানে এবং একই সাথে বাড়তি মুনাফা অর্জনে ব্ল্যাক কার্প (Black Carp) চাষ বর্তমানে ব্যাপক
জনপ্রিয়। এই মাছটি অত্যন্ত সুস্বাদু এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক। রুই, কাতলা ও অন্যান্য
কার্প জাতীয় মাছের সাথে এটি খুব সহজেই চাষ করা যায়।
১. ব্ল্যাক কার্প মাছের বিশেষত্ব ও উপকারিতা
২. পুকুর প্রস্তুতি ও আদর্শ পরিবেশ
৩. পোনা নির্বাচন ও মজুদ পদ্ধতি
৪. খাদ্য ব্যবস্থাপনা
৫. পানির গুণমান ও রক্ষণাবেক্ষণ
৬. রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার
ব্ল্যাক কার্প সাধারণত বেশ শক্তপোক্ত মাছ। তবে পানির গুণমান খারাপ হলে মাছের
গায়ে উকুন (Argulus) হতে পারে। নিয়মিত চুন ও লবণের পরিমিত ব্যবহার
মাছকে রোগমুক্ত রাখে।
অক্সিজেন ব্যবস্থাপনা: বড় সাইজের ব্ল্যাক কার্পের জন্য পানিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন
হয়। পুকুরের পানি মাঝেমধ্যে নাড়াচাড়া করা বা নতুন পানি যোগ করা ভালো।
নজরদারি: মাসে অন্তত একবার জাল টেনে মাছের স্বাস্থ্য ও ওজন পরীক্ষা করতে হবে।
ব্ল্যাক কার্প মূলত মাংসাশী (শামুকভোজী) প্রকৃতির হলেও এরা সম্পূরক খাবারও গ্রহণ করে।
প্রাকৃতিক খাদ্য: এদের প্রধান খাবার হলো শামুক, ঝিনুক এবং জলজ কীটপতঙ্গ।
সম্পূরক খাদ্য: পুকুরে শামুক শেষ হয়ে গেলে এদের জন্য প্রোটিন সমৃদ্ধ ডুবন্ত বা সিঙ্কিং ফিড
(Sinking Feed) দিতে হবে। এছাড়াও চালের কুঁড়া ও সরিষার খৈল দেওয়া যেতে পারে।
সাফল্যের জন্য সুস্থ ও সবল পোনা নির্বাচন জরুরি।
পোনা নির্বাচন: ৫-৬ ইঞ্চির বড় পোনা (আঙুলে পোনা) মজুদ করা ব্ল্যাক কার্পের জন্য
সবচেয়ে নিরাপদ।
মজুদ ঘনত্ব: মিশ্র চাষে প্রতি শতাংশে ৩-৫টি ব্ল্যাক কার্প পোনা ছাড়া যায়। যদি পুকুরে শামুকের
আধিক্য খুব বেশি থাকে, তবে সংখ্যা কিছুটা বাড়ানো যেতে পারে।
অন্যান্য মাছের সাথে চাষ: রুই, কাতলা, মৃগেল ও সিলভার কার্পের সাথে এটি
আদর্শ মিশ্র চাষের মাছ।
ব্ল্যাক কার্প চাষের জন্য গভীর ও খোলামেলা পুকুর ভালো।
গভীরতা: আদর্শ পুকুরের পানির গভীরতা ৫-৭ ফুট হওয়া উচিত।
চুন প্রয়োগ: শতাংশ প্রতি ১ কেজি চুন দিয়ে পুকুরের তলা শোধন করে নিতে হবে। চুন দেওয়ার
৫-৭ দিন পর পোনা ছাড়ার পরিবেশ তৈরি হয়।
শামুকের উপস্থিতি: পুকুরে যদি আগে থেকেই শামুক থাকে, তবে ব্ল্যাক
কার্পের বৃদ্ধি খুব দ্রুত হবে।
শামুক নিধন: এই মাছের প্রধান খাদ্য হলো পুকুরের ছোট-বড় শামুক ও ঝিনুক। ফলে পুকুরে বিষ
প্রয়োগ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে শামুক দমন করা যায়।
দ্রুত বৃদ্ধি: উন্নত জাতের ব্ল্যাক কার্প খুব দ্রুত বড় হয় এবং ২-৩ বছরেই ১০-১৫ কেজি বা তার
বেশি ওজনের হতে পারে।
উচ্চ বাজারমূল্য: অন্যান্য কার্প মাছের তুলনায় বাজারে ব্ল্যাক কার্পের চাহিদা ও
দাম অনেক বেশি।