৬ প্যাডেল হুইল এয়ারেটর (6 Paddle Wheel Aerator) বড় আকারের পুকুর বা কমার্শিয়াল
মৎস্য খামারের জন্য একটি অত্যন্ত শক্তিশালী যন্ত্র। আপনার প্রজেক্টে যেখানে পানির আয়তন বেশি,
সেখানে এটি দারুণ কার্যকর।
নিচে এটি কীভাবে কাজ করে এবং ব্যবহারের নিয়ম বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. এটি কীভাবে কাজ করে? (Working Principle)
৬ প্যাডেল হুইল এয়ারেটরে একটি শক্তিশালী মোটরের সাথে একটি লম্বা শ্যাফট থাকে, যাতে
৬টি বড় প্লাস্টিকের পাখা বা প্যাডেল লাগানো থাকে।
পানি ও বাতাসের মিশ্রণ: মোটর যখন ঘোরে, তখন ৬টি পাখা একসাথে পানির ওপরের স্তরে
আঘাত করে এবং পানিকে সজোরে বাতাসে ছুড়ে দেয়। এতে
বাতাসে থাকা অক্সিজেন দ্রুত পানিতে মিশে যায়।
স্রোত তৈরি: পাখাগুলো একমুখী ঘোরে বলে পুকুরে পানির একটি কৃত্রিম স্রোত বা সার্কুলেশন
তৈরি হয়। এতে এক জায়গার অক্সিজেনযুক্ত পানি পুরো পুকুরে ছড়িয়ে পড়ে।
গ্যাস বের করা: পানির ওপরের স্তর সজোরে নাড়াচাড়া করার ফলে পুকুরের তলানিতে জমে
থাকা অ্যামোনিয়া ও অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস বুদবুদ আকারে বের হয়ে যায়।
২. ব্যবহারের নিয়ম (How to Use)
আপনার পুকুরে এটি সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
ক. পজিশনিং ও স্থাপন:
মাঝখানে বা সারিবদ্ধভাবে: পুকুর বড় হলে এটি মাঝখানে স্থাপন করুন। যদি একাধিক
এয়ারেটর থাকে, তবে এমনভাবে সেট করুন যেন একটির তৈরি করা পানির স্রোত অন্যটিকে
অক্সিজেন ছড়াতে সাহায্য করে (সাধারণত পুকুরের এক কোণ থেকে অন্য কোণ বরাবর)।
গভীরতা সমন্বয়: এয়ারেটরটি ফ্লোটের (নৌকা) ওপর এমনভাবে সেট করুন যেন পাখার অর্ধেক
অংশ পানির নিচে থাকে। খুব বেশি ডুবে থাকলে মোটরের ওপর চাপ পড়বে,
আবার খুব উপরে থাকলে পানি ভালোমতো ছিটবে না।
শক্ত করে বাঁধা: নাইলনের মোটা রশি দিয়ে পুকুরের চারপাড়ে খুঁটির সাথে এটি শক্ত করে বেঁধে দিন।
খ. বৈদ্যুতিক সংযোগ:
থ্রি-ফেজ বা সিঙ্গেল ফেজ: ৬ প্যাডেলের এয়ারেটর সাধারণত ২ এইচপি (2 HP) বা তার বেশি
ক্ষমতার হয়। আপনার বিদ্যুতের লাইন অনুযায়ী সঠিক মোটর বেছে নিন।
নিরাপদ ওয়্যারিং: যেহেতু এটি পানিতে থাকে, তাই তারের জয়েন্টে ওয়াটারপ্রুফ ইনসুলেশন
ব্যবহার করুন। অবশ্যই একটি ভালো মানের কন্ট্রোল বক্স বা সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করবেন।
গ. পরিচালনার সময়:
রাত ও ভোর: রাত ১২টার পর থেকে সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত এটি চালানো বাধ্যতামূলক।
খাবার দেওয়ার পর: মাছকে খাবার দেওয়ার ১-২ ঘণ্টা পর এটি চালালে পানির গুণমান ভালো থাকে।
মেঘলা দিনে: অক্সিজেন কম থাকলে দিনেও চালাতে হতে পারে।
৩. রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance)
গিয়ার অয়েল: এটি যেহেতু খুব ভারী কাজ করে, তাই এর গিয়ার বক্সে নিয়মিত গিয়ার অয়েল
(যেমন ৯০ নম্বর বা ১৪০ নম্বর গ্রেড) চেক করবেন। প্রথম মাসে একবার এবং পরে প্রতি ৩-৪ মাস
পর পর অয়েল বদলে দিন।
পাখা পরিষ্কার: পাখার সাথে শেওলা বা নেট আটকে গেলে তা পরিষ্কার করুন।
গ্রিজিং: শ্যাফটের মুভিং পার্টগুলোতে নিয়মিত গ্রিজ দিন যাতে ঘর্ষণ কম হয়।
সুবিধা:
৬টি পাখা থাকার কারণে এটি ২ বা ৪ পাখার এয়ারেটরের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত অক্সিজেনের
মাত্রা বাড়াতে পারে। এটি বিশেষ করে পাঙাশ, তেলাপিয়া বা কার্প
জাতীয় মাছের উচ্চ ঘনত্বের চাষে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।
Swapno Fisheries
& Agro Ltd.
0